মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভূমি বিষয়ক তথ্য

দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা: ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা (এল.এ.ও.)

 

      সরকারী আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারী/ ব্যক্তিমালিকানা সংস্থার আওতায় উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড বাসত্মবায়নের জন্য সুবিধামত স্থানে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভূমি প্রত্যাশী সংস্থা/কতৃপক্ষের প্রসত্মাবক্রমে অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল করা হয়ে থাকে। যে সকল অধ্যাদেশ ও ম্যানুয়েল অনুযায়ী সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল কার্যক্রম পরিচালিত হয় তা হলো:

 

K)   স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২

      খ)   স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়েল ১৯৯৭

      গ)   এ ছাড়া সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত পরিপত্র

 

১।   ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া:

 

      সরকারী, আধাসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিতসংস্থা কর্তৃক দাখিলকৃতঅধিগ্রহণ বা হুকুম দখল প্রসত্মাবের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্র/তথ্যাদি ৫(পাঁচ) কপি করে সংযুক্ত করা হলো:

 

      ক)  প্রত্যাশী সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রামত্ম প্রশাসনিক অনুমোদনপত্র।

      খ)   নূন্যতম জমির প্রয়োজনীয়তার সনদপত্র

      গ)               প্রসত্মাবিত ভূমির দাগসূচি। (সর্বশেষ জরিপের মৌজার নাম, জে.এল. নং, দাগ নং, দাগের শ্রেণী, দাগের মোট জমি-প্রসত্মাবিত অধিগ্রহণ             বা হুকুম দখল জমি উলেস্নখ পূর্বক)

      ঘ)   লে আউট পস্ন্যান

      ঙ)   অধিগ্রহণ বা হুকুম দখল নকশা (প্রসত্মাবিত ভূমি লাল রং দ্বারা চিw‎‎‎হ্ন করতে হবে)

       চ)   নির্ধারিত ছকে বর্ণনা

      ছ)   প্রকল্পের জন্য আর্থিক মঞ্জুরী বা বাজেট বরাদ্দপত্র

      জ)  পুরানো দপ্তর/স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রসত্মাবের  ক্ষেত্রে পুরানো দপ্তর/স্থাপনার জমি কালেক্টর বরাবর সমর্পণ করা হবে এ মর্মে অঙ্গীকারপত্র

      ঞ)  প্রকল্পের বিসত্মারিত বর্ণনা

      বেসরকারী সংস্থা/ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত ভূমি অধিগ্রহণ বা হুকুম দখল প্রসত্মাবের সাথে নিম্নোক্ত কাগজ/তথ্যাদি ৫(পাঁচ) কপি করে সংযুক্ত করা প্রয়োজন:

 

      ক)  প্রসত্মাবিত প্রকল্প/উদ্যোগের ছক পত্রসহ উহা বাসত্মবায়নের জন্য অর্থায়নের উৎস এবং অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের নিশ্চয়তাপত্র

L)    ন্যূনতম জমির প্রয়োজনীয় সনদপত্র

M)  প্রসত্মাবিত ভূমির দাগসূচি (সর্বশেষ জরিপের মৌজার নাম, জে.এল. নং, দাগ নং, দাগের শ্রেণী, দাগের মোট জমি- প্রসত্মাবিত অধিগ্রহণ বা হুকুম দখল জমি উলেস্নখপূর্বক)

N)   লে আউট পস্ন্যান

O)   অধিগ্রহণ বা হুকুম দখল নকশা (প্রসত্মাবিত ভূমি লাল রং দ্বারা চিহ্নি করতে হবে)

P)    স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ বিধিমালা, ১৯৮৪ এর ৭ নং বিধিমতে ‘ছ’ ফরমে ১৫০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্মতিপত্র

Q)   প্রকল্পের বিসত্মারিত বর্ণনা

 

      স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ,১৯৮২ (১৯৮২ সনের ২ নং অধ্যাদেশ) এর বিধানমতে ভূমি অধিগ্রণের জন্য নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়:

 

      ক)  ভূমি প্রত্যাশী সংস্থার প্রসত্মাবের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত আছে কিনা তা পরীক্ষা এবং প্রসত্মাবিত ভূমি নকশা ও ভূমি তফশিল যাচাই

      খ)   অধিগ্রহণ ও হুকুম দখলের সম্ভাব্যতা যাচাই। সম্ভাব্যতা যাচাইকালে প্রকল্পভুক্ত ভূমির/সম্পত্তির ভিডিও চিত্র ধারণ ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ

      গ)   জেলা স্থান নির্বাচন কমিটিতে উপস্থাপন এবং সুপারিশ/সিদ্ধামত্ম গ্রহণ ভূমি বরাদ্দ কমিটিতে উপস্থাপন এবং কমিটির সিদ্ধামত্ম গ্রহণ

N)   অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল কেস নথি সৃজন

O)   অধিগ্রহণ ক্ষেত্রে ৩ ধারামতে নোটিশ প্রদানের আদেশ ও ৩ ধারা জারী হুকুম দখলের জন্য ১৮(১) ধারায় নোটিশ জারী

P)     অধিগ্রহণ ক্ষেত্রে ৩ ধারায় নোটিশ জারীর পরপরই যৌথ জরিপ ও ফিল্ড বুক প্রস্ত্তত। হুকুম দখলের ক্ষেত্রে ১৮(১) ধারায় বর্ণিত দখল গ্রহণের/হসত্মামত্মরের তারিখে ভূমির উপরিস্থিত প্রাপ্ত সম্পত্তির বিবরণ সম্বলিত ফিল্ড বুক প্রস্ত্তত

Q)   অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৩ ধারায় নোটিশ জারীর পর নির্ধারিত ১৫ (পনের) দিন সময়ের মধ্যে অধিগ্রহণের বিরম্নদ্ধে দাখিলকৃত আপত্তি (যদি পাওয়া যায়) শুনানী ও সিদ্ধামত্ম গ্রহণের জন্য ৫০ বিঘা পর্যমত্ম বিভাগীয় কমিশনার, ৫০ বিঘার উপরে হলে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ। আর যদি আপত্তি পাওয়া না যায় তবে ৫০ বিঘা পর্যমত্ম জেলা প্রশাসক চূড়ামত্ম সিদ্ধাসত্ম প্রদান করবেন। ৫০ বিঘার উপরে হলে সরকারের নিকট চূড়ামত্ম সিদ্ধামত্ম প্রদানের জন্য সুপারিশসহ প্রেরণ করতে হবে

R)    ধারার মতে মালিকানা নির্ধারণের ও ক্ষতিপূরণের স্বার্থ সম্পন্ন ব্যক্তিগণকে নোটিশ প্রদান

S)    ক্ষতিপূরণ ধার্য (৩ ধারা নোটিশ জারীর তারিখ হতে পূর্ববর্তী ১২ মাসের বিক্রিত দলিলের বিক্রয়াংক সংশিস্নষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার অফিস হতে সাব-রেজিস্ট্রারের প্রত্যায়নক্রমে সংগ্রহপূর্বক অধিগ্রহণকৃত ভূমির আশেপাশে, সমশ্রেণীর ও সমসুবিধাযুক্ত বিক্রয়াংকের ভিত্তিতে মূল্যহার নির্ধারিত হয়)

T)    অনুমোদিত মূল্যহার অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্ত্তত এবং প্রাক্কলিত অর্থ প্রত্যাশী সংস্থার নিকট প্রেরণ

U)   প্রাক্কলিত অর্থ প্রাপ্তি এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য এ্যাওয়ার্ড প্রস্ত্তত

V)    ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সংশিস্নষ্ট স্বার্থসমম্পন্ন ব্যক্তিগণকে ৭ ধারামতে নোটিশ প্রদান

W)প্রাক্কলিত অর্থ ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে সংস্থাপন করা না হলে বা অন্য কোন কারণে অধিগ্রহণ প্রসত্মাব বাতিল/প্রত্যাহার

X)    আরবিট্রেটর বরাবর দরখাসত্ম ও পরবর্তী কার্যক্রম

Y)    অধিগ্রহণকৃত ভূমির দখল গ্রহণ এবং প্রত্যাশী সংস্থার নিকট হসত্মামত্মর

Z)    গেজেট বিজ্ঞপ্তি

থ)   প্রত্যাশী সংস্থার নামে নামজারী জমাভাগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রেরণ

দ)   অধিগ্রহণ কার্যক্রম নিশ্চিত করণ

a)     রেকর্ড কনসাইনমেস্ট

 

      ২। ক্ষতিপূরণ প্রদান:

 

            ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ মালিকগণকে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রাপ্তির জন্য ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, রাজশাহী বরাবর ১৪ (চৌদ্দ) টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করে  আবেদন করতে হবে। আবেদন পত্রের সাথে সংশিস্নষ্ট ভূমির আর.এস. খতিয়ানের কপি, মালিকানা স্বত্ব প্রমাণের জন্য যাবতীয় দলিলের কপি, নাম খারিজ খতিয়ানের কপি, হাল সনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওয়ারিশন সনদপত্র সংযুক্ত করতে হবে। ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বশেষ জরিপ (আর.এস. জরিপ) অনুসারে এ্যাওয়ার্ড প্রস্ত্তত করা হয়ে থাকে। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি মিস কেস চলু করা হয়। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিক ও মূল এ্যাওয়ার্ডীকে নোটিশ প্রদান করে শুনানী গ্রহণ করা হয়। অত:পর মিস কেস প্রদত্ত সিদ্ধামত্ম। অনুসারে এ্যাওয়ার্ড সংশোধন করে বর্তমান ভূমি মালিককে ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়।

 

            ক্ষতিপূরণের এল.এ চেক গ্রহণের সময় ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকগণকে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙ্গিন ছবি, ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ইনডেমনিটি বন্ড, আর. এস. খতিয়ান, ক্রয় সূত্রে হলে আর. এস. খতিয়ান হতে মালিকানা পরিবর্তনের সকল দলিল খারিজ খতিয়ান ডি.সি.আর. হাল সনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা, ওয়ারিশন সনদ ইত্যাদির মূল কপি দখিল করতে হবে। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের এল.এ. চেক গ্রহণেরসময় চেক গ্রহীতাকে সনাক্ত করার জন্য সংশিস্নষ্ট ইউনিয়ন পরিশোধের চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড সদস্যকে উপস্থিত করতে হবে। ধার্যকৃত ক্ষতিপূরণের উপর কোন ব্যক্তির আপত্তি থাকলে বা দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান থাকলে আপত্তি বা দেওয়ানি মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যমত্ম ক্ষতিপূরণ প্রদান বন্ধ রাখা হয়। ক্ষতিপূরণের টাকা এল.এ. চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। উক্ত টাকা প্রপ্তির জন্য আবেদনপত্র ১৪ (চৌদ্দ) টাকার কোর্ট ফি ও ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ইনডেমনিটি বন্ড প্রদান ব্যতীত অতিরিক্ত কোন অর্থ প্রদান করতে হয় না।  

(ক্ষতিপূরণ প্রপ্তির আবেদনপত্রের নমুনা)

১৪ (চৌদ্দ)  টাকার কোর্ট ফি

 

বরাবর

       ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা

        রাজশাহী।

 

বিষয়      :........... নং এল. এ. কেসে  অধিগ্রহণতৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ প্রপ্তির আবেদন ।

 

জনাব

 

     বিনীত নিবেদন এই যে, আমি/আমরা নিম্ন তফশিল বর্ণিত ভূমি/সম্পত্তি আর.এস খতিয়ান/ ওয়ারিশন/দলিল/ নামজারী-জমাখারিজ মূলে প্রাপ্ত হয়ে নিজ নামে.......................................................... তারিখের........................... নং দাখিলায় ......................................... সনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ভোগদখল করছি। আপনার কার্যালয় হতে .............................. নং এল.এ কেসে নিম্ন তফশিল বর্ণিত ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আমি/আমরা নিম্ন তফশিল বর্ণিত পূর্ণ/আংশিক ভূমির মালিক। এবং অন্যান্য সম্পত্তির সম্পূর্ণ/ আংশিক অংশের মালিক। আমি/আমরা নিম্ন তফশিল বর্ণিত সম্পত্তির মালিক ও দখলদার হওয়ায় আমরা/আমাদের মালিকানারা সত্বের সকল কাগজপত্র ধারাবাহিকভাবে উলেস্নখ পূর্বক মূল ও ফটোস্ট্যাট কপি সংযুক্ত করলাম।

        এমতাবস্থায়, নিম্ন তফশিল বর্ণিত ভূমি/সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ আমরা/আমাদের নামে প্রদান করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। অনুগ্রহপূর্বক আমরা/আমাদের নামে ক্ষতিপূরণ প্রদানে মর্জ্জি হয়।

সংযুক্ত:

মালিকানা সত্বের সকল কাগজপত্রের ধারাবাহিক তালিকা (ফটোস্ট্যাট কপি সংযুক্ত)

 

  1. আর.এস. খতিয়ান
  2. ওয়ারিশন সনদপত্র
  3. রেজিস্ট্রি দলিল (আর.এস. খতিয়ানের মালিক হতে ধারাবাহিকভাবে সকল দলিল)
  4. মিউটিশান খতিয়ান
  5. সর্বশেষ বাংলা সন পর্যমত্ম ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ দাখিলা
  6. অন্য কাগজমূলেমালিকানা দাবী করলে তাও উলেস্নখপূর্বক কপি দাখিল করতে হবে

 

তফশীল

মৌজা:

 

আবেদনকারী /আবেদনকারী গণের নাম ও ঠিকানা

খতিয়ান নং

দাগ নং

দাগের মোট অংশ

অংশমতে জমি

দাগের মোট অধিগ্রহণ

দখল/অংশমতে অধিগ্রহণ জমি

অন্যান্য সম্পত্তি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

                    

তারিখ:

 

(স্বাক্ষর)

নাম:

পিতার নাম:

পূর্ণ ঠিকানা:

মোবাইল নং (যদি থাকে)

 

 

 

 

ভূমি বিষয়ক তথ্য

খতিয়ান কী ?

মৌজা ভিত্তিক এক বা একাদিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরন সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

সি,এস রেকর্ড কী ?

সি,এস হল ক্যাডাস্টাল সার্ভে। আমাদের দেশে জেলা ভিত্তিক প্রথম যে নক্সা ও ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাকে সি,এস রেকর্ড বলা হয়।

এস,এ খতিয়ান কী ?

সরকার কর্তৃক ১৯৫০ সনে জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করার পর যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস,এ খতিয়ান বলা হয়। 

নামজারী কী ?

উত্তরাধিকার বা ক্রয় সূত্রে বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় কোন জমিতে কেউ নতুন মালিক হলে  তার নাম খতিয়ানভূক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলে।

জমা খারিজ কী ?

জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়।

পর্চা কী ?

ভূমি জরিপকালে প্রস্তুতকৃত খসরা খতিয়ান যে অনুলিপি তসদিক বা সত্যায়নের পূর্বে ভূমি মালিকের নিকট বিলি করা হয় তাকে মাঠ পর্চা বলে। রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত বা তসদিক হওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানির শেষে খতিয়ান চুরান্তভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলা হয়।

তফসিল কী ?

তফসিল অর্থ জমির পরিচিতিমূলক বিস্তারিত বিবরন। কোন জমির পরিচয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমান ইত্যাদি তথ্য সমৃদ্ধ বিবরনকে তফসিল বলে।

মৌজা কী ?

ক্যাডষ্টাল জরিপের সময় প্রতি থানা এলাকাকে অনোকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে। থানা এলাকার এরুপ প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে। এক বা একাদিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।

খাজনা কী ?

ভূমি ব্যবহারের জন্য প্রজার নিকট থেকে সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে ভুমি কর আদায় করে তাকে ভুমির খাজনা বলা হয়।

ওয়াকফ কী ?

ইসলামি বিধান মোতাবেক মুসলিম ভূমি মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যানমুলক প্রতিষ্ঠানের ব্যায় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি দান করাকে ওয়াকফ বলে।

মোতওয়াল্লী কী ?

ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান যিনি করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে।মোতওয়াল্লী ওয়াকফ প্রশাষকের অনুমতি ব্যতিত ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না।

ওয়রিশ কী ?

ওয়ারিশ অর্থ ধর্মীয় বিধানের আওতায় উত্তরাধিকারী। কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে আইনের বিধান অনুযায়ী তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ওয়ারিশ বলা হয়।

ফারায়েজ কী ?

ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।

খাস জমি কী ?

ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।

কবুলিয়ত কী ?

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহন করে খাজনা প্রদানের যে অংঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।

দাগ নং কী ?

মৌজায় প্রত্যেক ভূমি মালিকের জমি আলাদাভাবে বা জমির শ্রেনী ভিত্তিক প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সিমানা খুটি বা আইল দিয়ে স্বরজমিনে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়। মৌজা নক্সায় প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে জমি চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত্ব নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে।

ছুট দাগ কী ?

ভূমি জরিপের প্রাথমিক পর্যায়ে নক্সা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় নক্সার প্রত্যেকটি ভূ-খন্ডের ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সময় যে ক্রমিক নাম্বার ভূলক্রমে বাদ পরে যায় অথবা প্রাথমিক পর্যায়ের পরে দুটি ভূমি খন্ড একত্রিত হওয়ার কারনে যে ক্রমিক নাম্বার বাদ দিতে হয় তাকে ছুট দাগ বলা হয়।

চান্দিনা ভিটি কী ?

হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান অংশের অকৃষি প্রজা স্বত্ত্য এলাকাকে চান্দিনা ভিটি বলা হয়।

অগ্রক্রয়াধিকার কী ?

অগ্রক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্ত্বি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনানুগভাবে অন্যান্য ক্রেতার তুলনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্যতার বিধান। কোন কৃষি জমির মালিক বা অংশিদার কোন আগন্তুকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে অন্য অংশিদার কর্তৃক দলিলে বর্নিত মূল্য সহ অতিরিক্ত ১০% অর্থ বিক্রি বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলা হয়।

আমিন কী ?

ভূমি জরিপের মধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলা হত।

সিকস্তি কী ?

নদী ভাংঙ্গনে জমি পানিতে বিলিন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলা হয়। সিকস্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়স্তি হলে সিকস্তি হওয়ার প্রাককালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন, তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।

পয়স্তি কী ?

নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলা হয়।

নাল জমি কী ?

সমতল ২ বা ৩ ফসলি আবাদি জমিকে নাল জমি বলা হয়।

দেবোত্তর সম্পত্তি কী ?

হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন, ব্যাবস্থাপনা ও সু-সম্পন্ন করার ব্যয় ভার নির্বাহের লক্ষ্যে উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি সম্পত্তি বলা হয়। 

দাখিলা কী ?

ভূমি মালিকের নিকট হতে ভূমি কর আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নং-১০৭৭) ভূমিকর আদায়ের প্রমানপত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

ডি,সি,আর কী ?

ভূমি কর ব্যতিত অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নং-২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে ডি,সি,আর বলে।

দলিল কী ?

যে কোন লিখিত বিবরনি যা ভবিষ্যতে আদালতে স্বাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিষ্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি করেন তাকে সাধারনভাবে দলিল বলে।

কিস্তোয়ার কী ?

ভূমি জরিপকালে চতুর্ভূজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করারপর  সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভূমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নক্সা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।

খানাপুরি কী ?

জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরণ করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।